Header Ads


moving image by marquee html code

ভাসমান ট্রাভেল ব্যাগে মিলল খণ্ডিত লাশ

নরসিংদী থানার পুলিশ গত মঙ্গলবার রাতে জেলার বাদুয়ারচরের হাড়িধোয়া নদী থেকে একটি ট্রাভেল ব্যাগ উদ্ধার করেছে। ব্যাগের ভেতর খণ্ডিত লাশ ছিল। পুলিশ বলছে, লাশটি নরসিংদী সরকারি কলেজের ছাত্র মাহফুজ সরকারের। হত্যার ১৭ দিন পর মাহফুজের লাশ উদ্ধার হলো।
পুলিশ জানায়, মাহফুজ নরসিংদী সরকারি কলেজের বিএ (পাস) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মাহফুজের বাড়ি নরসিংদী পৌর শহরের বানিয়াছল মহল্লায়। বাবার নাম আবদুল হান্নান সরকার। ২৬ মে মাহফুজ ঘর থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি।
ওই দিনই মাহফুজের ব্যবহৃত একটি মুঠোফোন থেকে তাঁর বাবার নম্বরে কল আসে। ফোন করে মাহফুজকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয় এবং মুক্তিপণ হিসেবে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবি অনুযায়ী বিকাশের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা টাকা পাঠান। তবে মাহফুজকে ফেরত পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ৩০ মে মাহফুজের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ নরসিংদী শহরের রাঙ্গামাটিয়া মহল্লার প্রবাসী আল মামুনের স্ত্রী রাবেয়া আক্তারকে আটক করে। পরে মাহফুজ হত্যার কথা স্বীকার করে ৭ জুন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন রাবেয়া।
রাবেয়া জবানবন্দিতে বলেন, মাহফুজকে তিনি আগে থেকে চিনতেন। সে কারণে তাঁর বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল মাহফুজের। হত্যার কিছুদিন আগে বাসায় একা পেয়ে রাবেয়ার ছোট ছেলেকে বলাৎকার করেন মাহফুজ। জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে মাহফুজকে বাসায় ডেকে এনে হত্যা করেন তিনি। পরদিন ট্রাভেল ব্যাগে ভরে লাশ নদীতে ফেলে দেন। রাবেয়া আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেও লাশ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নরসিংদী শহর-সংলগ্ন হাজীপুর ইউনিয়নের বাদুয়ারচর গ্রামের ঈদগাহ-সংলগ্ন হাড়িধোয়া নদীতে ট্রাভেল ব্যাগটি ভাসতে দেখে স্থানীয় ব্যক্তিরা পুলিশকে জানান। পুলিশ রাত সাড়ে নয়টার দিকে ব্যাগটিতে খণ্ডিত লাশ দেখতে পায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরে আলম হোসাইন বলেন, গতকাল বুধবার ময়নাতদন্ত শেষে মাহফুজের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশের কিছু অংশ ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে।

No comments

Thanks you for comment

Powered by Blogger.