Header Ads


moving image by marquee html code

চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে

দেশজুড়ে চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। শুরুতে রাজধানীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন চিকুনগুনিয়া ভাইরাস বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গ্রামেও চিকুনগুনিয়া বিস্তারের খবর এসেছে। এমনকি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এর পরই মূলত চিকুনগুনিয়া নিয়ে সারাদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বিগ্ন সরকার একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেও ভয়াবহ হয়ে ওঠা এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের দেরিতে কাজ শুরু করাকেই দায়ী করেছেন। তাদের মতে, আগে থেকে পরিকল্পনা করে সে অনুযায়ী কাজ করলে চিকুনগুনিয়ার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো।
গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) কাজ হলো, নতুন রোগ নিয়ে গবেষণা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যে কোনো ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করা। কিন্তু সরকারের এই দুটি বিভাগ কার্যক্রম শুরু করতে দেরি করেছে। একই সঙ্গে সিটি করপোরেশন মশক নিধন কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করেনি। সবচেয়ে বড় কথা, চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় সরকার বিভাগের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। তাই চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সিডিসি) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, 'চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য মশার বংশবিস্তার রোধ করতে হবে। আর মশক নিধন কার্যক্রম চালাবে সিটি করপোরেশন। কারণ সরকার মশক নিধন কর্মসূচির জন্য সিটি করপোরেশনকে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়। স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। আমরা সেই কাজ করছি।'
তবে দেরিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে তিনি বলেন, এ বছর আগেভাগে বৃষ্টি শুরুর কারণে তারা ডেঙ্গু বিস্তারের আশঙ্কা করেছিলেন। মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে মানুষ জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন- এমন বার্তা তাদের কাছে ছিল। তবে সেটি চিকুনগুনিয়া কি-না তা জানতে পারেননি। চিকুনগুনিয়া বিস্তারের খবর পাওয়ার পরপরই মে মাস থেকে সচেতনতা কার্যক্রম শুরু করা হয় এবং বর্তমানে তা জোরালোভাবে চালানো হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চিকুনগুনিয়া আক্রান্তের খবর এলেও সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রোগী সংখ্যার এ তথ্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা। তিনি বলেন, 'চিকুনগুনিয়া বিষয়ে আইইডিসিআর একটি জরিপ করছে। সেটা শিগগিরই শেষ হবে। কতসংখ্যক মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে, ওই জরিপ শেষে তা চূড়ান্তভাবে জানা যাবে।'
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত চিকুনগুনিয়াকে বিপজ্জনক রোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তার পরও সরকার এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে। চিকুনগুনিয়া পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ডা. আজাদ বলেন, 'স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের পক্ষে চিকুনগুনিয়ার বাহক মশা নিধন করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম ও জনগণের সচেতনতাই রোগ প্রতিরোধে মূল ভূমিকা রাখতে পারে। তাদের কাজ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা আর আক্রান্ত হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। এ বিষয়ে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দরে সতর্কতা নেই এদিকে দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে বিমানবন্দর কিংবা স্থলবন্দরে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। চিকুনগুনিয়ার জীবাণু এবং এর বাহক এডিস মশা দুটিই বাংলাদেশে বর্তমান থাকায় নতুন করে বন্দর দিয়ে এটি ছড়িয়ে পড়ার কোনো আশঙ্কা নেই। এ রোগ নিয়ে ডবি্লউএইচও থেকেও জরুরি অবস্থা জারি হয়নি।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফুল হাসান সমকালকে বলেন, বর্তমানে জিকা ভাইরাস, ইভোলা এবং মার্স করোনারি সিনড্রোমের জন্য তারা বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট দেশের যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত ২৭টি দেশের নাগরিকদের ওপর সতর্কতা জারি করেছিল ডবি্লউএইচও। জরুরি অবস্থা শিথিল করা হলেও জনসচেতনতা তৈরির জন্য তারা এখনও ২৭টি দেশের মধ্যে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার নাগরিক এবং সেখান থেকে আসা বাংলাদেশিদের পরীক্ষা করেন। মার্স ভাইরাসের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ওপর সতর্কতা জারি করা আছে। বিশেষ করে হজের সময় সৌদি আরব ফেরত হজযাত্রীদের পরীক্ষা করে প্রবেশ করানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, সাধারণত কোনো রোগ একাধিক দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে ডবি্লউএইচও জরুরি অবস্থা জারি করে। তবে চিকুনগুনিয়ার ক্ষেত্রে এমনটা নেই। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ পৃথিবীর ৬০টি দেশে এ রোগের সংক্রমণ ঘটেছে। কোনো দেশে একবার চিকুনগুনিয়া হলে সে দেশে ৬ থেকে ১০ বছর এ রোগ দেখা যায় না। বাংলাদেশে এ রোগের জীবাণু বহনকারী মশা এবং জীবাণু উভয়ই থাকায় বন্দরগুলোতে এ নিয়ে সতর্কতার কিছু নেই।
জিকা ভাইরাস নিয়ে গত বছর ডবি্লউএইচও বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা জারির পর বাংলাদেশের সব নৌ, স্থল ও বিমানবন্দরে এ ব্যাপারে ব্যাপক নজরদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জিকা ভাইরাসের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে থাকা থারমাল স্ক্যানার মেশিন দিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকদের পার করানো হয়। কারও জ্বর ধরা পড়লে তাদের রেজিস্ট্রেশন করে রাখাসহ একটি স্বাস্থ্থ্য কার্ড প্রদান করা হয়। পরে তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষাকেন্দ্রে পাঠিয়ে সে অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পৃথক করা হয়।

No comments

Thanks you for comment

Powered by Blogger.