Header Ads


moving image by marquee html code

রক্তাক্ত ২১ আগস্ট, আজও পলাতক ১৯ আসামি

আজ সেই বর্বোরোচিত ও ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার রক্তাক্ত দিন ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের এই দিনে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।
ভয়াবহ সেই হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নারী নেত্রী দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী মিসেস আইভী রহমানসহ ২৪ জন। আহত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্তত ৫০০ জন। আজ সোমবার (২১ আগস্ট) সেই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ১৩তম বার্ষিকী।
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের দাবি, দলকে নেতৃত্বশূন্য করতে তত্কালীন বিরোধীদলের নেতা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের প্রথম সারির নেতাদের হত্যার উদ্দেশে ওই জঘন্য হামলা চালানো হয়েছিল।
বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে অভিযুক্ত করা হয় ৫২ জনকে।
অভিযুক্তদের মধ্যে এখনও পলাতক রয়েছে ১৯ জন। এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ও অপর এক মামলায় হরকাতুল জিহাদ (হুজি) প্রধান মুফতি আবদুল হান্নানের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
এছাড়া জামিনে রয়েছেন ৮ জন আসামি। বাকি ১৯ জন আসামি বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান রয়েছেন লন্ডনে, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবে, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক হানিফ ভারতের কলকাতায়, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার কানাডায়, বাবু ওরফে রাতুল বাবু ভারতে, আনিসুল মোর্সালীন এবং তার ভাই মুহিবুল মুক্তাকীন ভারতের কারাগারে এবং মাওলানা তাজুল ইসলাম দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছেন।
দেশের বাইরে অবস্থান করছেন জঙ্গি নেতা শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর, ইকবাল, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর, মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (পূর্ব) এবং উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) ওবায়দুর রহমান এবং খান সাঈদ হাসান। তবে এদের বেশির ভাগই পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে অভিযুক্ত পলাতক হারিস চৌধুরীর অবস্থান জানা যায়নি।
পলাতকদের মধ্যে মাওলানা তাজউদ্দিন ও বাবু এরা দুজনই বিএনপি সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই। পিন্টুও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযুক্ত। তাদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে শুধু বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর ও সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু বর্তমানে জেলে রয়েছেন। একই মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী এবং সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদ রয়েছেন জামিনে।
কী ঘটেছিল সেদিন
সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা ও গোপালগঞ্জে পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভার আয়োজন করে।
সমাবেশের প্রধান অতিথি তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান বিকেল পাঁচটায়। একটি ট্রাকের ওপর তৈরি করা মঞ্চে কুড়ি মিনিটের বক্তব্য শেষ করেন দলীয় প্রধান। এরপর বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক ওই মুহূর্তে মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন এবং পরে হাসপাতালে আরও ১২ জন নিহত হন।
হামলায় তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী মিসেস আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন। আহত হন অন্তত ৫০০ জন। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও তার শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নারকীয় ওই ঘটনায় তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, হুজি প্রধান মুফতি হান্নান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। ২০০৮ সালের ১১ জুলাই প্রথম মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু এবং ২১ জন হুজি নেতাকর্মীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করা হয়। নতুন করে তদন্তের পরে ২০১২ সালের ৩ জুলাই অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে পৃথক দু’টি সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে। দু’টি মামলায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জন।
স্বরাষ্ট্র আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তিময় সমাবেশে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় দায়ের করা মামলার পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার আইনি এবং কূটনৈতিক তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দলকে নেতৃত্বশূন্য করতে তত্কালীন বিরোধীদলের নেতা, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের প্রথম সারির নেতাদের হত্যার উদ্দেশে এ জঘন্য হামলা চালানো হয়েছিল।
মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল জানান, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার এখন শেষ পর্যায়ে। দীর্ঘ প্রত্যাশিত এই মামলার রায় চলতি বছরের মধ্যেই হবে। বর্তমানে এ মামলায় আসামি পক্ষের ১৩ জনের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আসামি পক্ষের আরো ৮ থেকে ১০ জনের সাফাই সাক্ষ্য নেয়া হবে। পরে এ মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণা করা হবে।
অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন বলেন, এর আগে দু’জন তদন্ত কর্মকর্তাসহ (আইও) ২২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহন ও তাদের আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা সম্পন্ন করেছেন। এ মামলায় ৪৯১ জনের মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

No comments

Thanks you for comment

Powered by Blogger.