Header Ads


moving image by marquee html code

চলচ্চিত্র শিল্পে সিনেমা হলের নতুন দর্শক তৈরির বাজিকররা নেই!

চলচ্চিত্র শিল্পে সিনেমা হলের নতুন দর্শক তৈরির বাজিকররা নেই, sonargaon new
ঈদের ছবি নিয়ে তারকা-নির্মাতা-কলাকুশলীদের ভেতরে যেমন উচ্ছ্বাস থাকে তেমনি থাকে আশঙ্কাও। তবে গত কয়েকবছরের চলচ্চিত্রের হিসেব অনুযায়ী, এদেশে ঈদের ছবি মানেই শাকিব অভিনীত ছবি। এটাই সফলভাবে প্রমাণিত। একইসাথে শাকিব খানের ছবিগুলোর ধারাবাহিক সাফল্যও এই ধারণাকে চূড়ান্ত করেছে।
অন্যদিকে, ঈদের ছবির জন্য প্রযোজক-পরিচালকের অন্যতম ভয় হলো সিনেমা হল না পাওয়া। কারণ ডিস্ট্রিবিউশন নীতিতে তাদের আগ্রহটাই অনেক ক্ষেত্রে বড় হয়ে দেখা দেয়। কমার্শিয়াল তকমার ছবিতেই ডিস্টিবিউটররা যখন আগ্রহ প্রকাশ করে তখন ছবি নির্মাণের পর নিরূপায় চেহারায় পরিচালক-নব্য প্রযোজকরা কূল-কিনারা খুঁজে পান না। তাই এক্সপেরিমেন্টের সুযোগটা হারায়। ফলে এদেশে হলে যাওয়ার মতো নতুন দর্শক তৈরি হয় না। ছবি রিলিজের পর অনেক তারকা কুশলীরা প্রথমদিনের হাউজফুল দর্শকদের সাথে বিশাল সমাবেশের সেলফি তুলেই আত্মতুষ্টি গোনেন।
কিন্তু প্রথমদিনের দর্শকরা তো সিনেমা হলের অতি পুরোনো রেগুলার দর্শক। নতুন দর্শক আনাটাই তো বিপণনের কারিশমা। সেটিতে স্তব্ধ হয়ে আছে এদেশের সিনেমা। এই ধারার একটি অন্যতম উদাহরণ এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের নতুন ছবি ‘শেষ কথা’। নির্মাতা ডায়মন্ডের ছবিতে বরাবরই একটি দারুণ গল্প ও নির্মাণের গ্যারান্টি থাকে। এ ছবিতে কলকাতার সমদর্শী ও বাংলাদেশের আইরিন অভিনয় করেছেন। অথচ ছবিটি কোনো সিনেমা হলে নয়, টিভি চ্যানেলে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে নির্মাতা ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ড বলেন, ‘আমার করার কিছু নেই। এ নিয়ে আমি ফেসবুকেও লিখেছি। কারণ আমি ঝুঁকি নেবো কোন শর্তে? ছবিটি খরচ করে বানালাম। এরপর ডিস্ট্রিবিউটররা যখন নিজেরা কোনো মার্কেটিং না করেন, স্রেফ ছবিটি টাঙানোর দায়িত্ব নেয় তখন তো ভয় হয়। কমপ্লিট প্রডিউসার তো নেই এখনও বাংলাদেশে, যারা এসবের দায়িত্ব নেবেন। এদেশে এখনও লগ্নিকারকেই প্রডিউসার বলে বসে থাকছেন। আজ ডিস্ট্রিবিউটররাই আমাকে যখন বলেন, পোস্টার থেকে শুরু করে হল পর্যন্ত ওঠাতে আরও প্রায় ৬ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করতে হবে। তখন তো আমি নিরূপায়! এরপর যখন আবার জানতে চাই, এই  ইনভেস্টের পর ফেরত পাওয়ার গ্যারান্টি কী? তখন তারা কোনো গ্যারান্টি দিতে পারেন না। কারণ তারা কোনো রিস্ক বা বাজি ধরতে শেখেননি বা চান না। এখন নির্মাতা শিল্পীরা তো বিক্রি করার দায়িত্ব নিতে পারেন না।’
এই পরিতাপের গল্পগুলো নিয়েই চলছে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। নির্মাতা তাই ছবিটি চ্যানেল আইতে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে দিচ্ছেন। অর্থাত্ এদেশে এখন অগণিত ছবি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সঠিক বিপণন হচ্ছে না বলেই দর্শককে হলে ফেরানোর তাগিদ জন্মাচ্ছে না। লগ্নিকারী, নির্মাতা, কলাকুশলী সকলেই যথেষ্ঠ মেধাবী রয়েছেন, অথচ ছবির বিপণনে সকলেই মুখ থুবড়ে পড়ছেন।
এ বছরেরও সর্বাধিক ছবি, এক কথায় বলা যায়, এককভাবে ঈদে রাজত্ব করছেন শাকিব খান। শাকিব খান ধারাবাহিক সফলতার পরও অনেকটা আক্ষেপ নিয়েই বলেন, ‘আমরা শিল্পীরা তো বাজারের দায়িত্ব নেবো না। আমি মনে করি, আমার ছবির আরও ২/৩গুণ ব্যবসা হওয়া উচিত। কিন্তু বিপণন পরিকল্পনার অভাবে মার খাচ্ছে। আমার জন্য দর্শকরা বসে আছেন, কিন্তু রেগুলার দর্শকের বাইরে আপনি ইরেগুলার দর্শককে কতটা হলে আনতে পারছেন সেটা হলো আপনার ডিস্ট্রিবিউটরদের কারিশমা। অথচ তারা কোনো ঝুঁকি নিতে চান না। গলদটা এখানেই। কলকাতার বাজারে আমাকে নতুন হিসেবে এন্ট্রি করেও সুপার ডুপার হিট হিসেবে বের করে নিয়ে এসেছে। এই কৃতিত্ব কিন্তু আমার একার না, ওদের গোটা ইন্ডাস্ট্রির। কারণ তারা আমাকে যেভাবে হাঁটতে বলেছেন আমি আমার মেধা অনুযায়ী সেভাবে হেঁটে দেখিয়েছি।’
ঈদে ডিএ তায়েব অভিনীত ‘সোনা বন্ধু’ ছবিটি রিলিজ পাচ্ছে। দারুণ কাস্টিংয়ের এই ছবিটিও হাতে গোনা হল পাচ্ছে। অথচ ছবিতে অভিনয় করছেন চিত্রনায়িকা পপি, পরীমনিসহ অনেকে। গ্রামের পটভূমিতে গল্পের শক্তিই ছবিটির অন্যতম ইএসপি। অথচ এখানেও বিপণন সঙ্কট। আমরা তাই হঠাৎ বজ্রপাতের মতো আয়নাবাজি বা মনপুরাকে দেখে বিষ্মিত হই। কারণ তাদের ছবির গল্প কনটেন্টের সাথে সাথে বিপণনটা থাকে সময় উপযোগী। কিন্তু সেই সব প্রডিউসার-ডিস্ট্রিবিউটররা হঠাৎ হঠাৎ সিনেমার সাথে যোগ হন বা নির্মাতারা যোগ করতে পারেন বলে মনপুরা, আয়নাবাজি আমাদের সিনেমার ‘সাফল্যের বজ্রপাত’ হিসেবে আখ্যায়িত।
বাইরের দেশে যখন প্রতিষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো সিনেমার প্রডিউসার হিসেবে আলাদা ব্যবসায়িক উইং খুলছেন, আমাদের দেশে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীরা সিনেমা থেকে ১০ হাত দূরে। ফলে সিনেমায় প্রকৃত অর্থে কোনো প্রডিউসার নেই। ফলে সিনেমা হলে নতুন দর্শক তৈরির বাজিকররা নেই ইন্ডাস্ট্রিতে। চিত্রনায়িকা বুবলী বলেন, ‘আমাদের প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে আরও আধুনিকতার প্রয়োজন। আমি বিশ্বাস করি আমরা অনেক উন্নতমানের ছবি করছি। আমাদের এর থেকেও আরও ভালো ব্যবসায়িক লাভ ঘরে আনা সম্ভব।’ এ ধারণা এ বিশ্বাস আমাদের সবার। কিন্তু চলচ্চিত্রের মূল অভিভাবক অর্থাত্ প্রডিউসার সত্তায় যখন নেই তখন ঘরের ছেলেমেয়েরা দিকভ্রান্ত হয়ে ছুটে বেড়াবেন এটাই তো স্বাভাবিক!

No comments

Thanks you for comment

Powered by Blogger.