Header Ads


moving image by marquee html code

কে হাসবে বিজয়ী হাসি,শামীম নাকি আইভী?

মাজহারুল ইসলামঃ প্রতিবছরের মতো রাত পোহালেই নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচন।এভাবেই চলছে গত কয়েক বছর।নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের আগ্রহ কখনোই ছিল না।টাকার মালিক বিত্তশালীরাই এই ক্লাবের সদস্য।ইচ্ছে করলেই যে কেউ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা রাখে না।যার কারণে এলিট শ্রেণির ক্লাব হিসেবেই শহরবাসী তথা নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে ক্লাবটি পরিচিত।ফলে নির্বাচনে কে জিতলো আর কে হারলো তা নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই মানুষের। কিন্তু এবারের নির্বাচন নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে ক্লাব সদস্যদের বাইরে সাধারণ জনতার মাঝে। বর্তমানে সর্বত্র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু নারায়ণগঞ্জ ক্লাব নির্বাচন।কারণ বিগত নির্বাচনগুলোতে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ওসমান পরিবার ইন্টারেস্ট দেখালেও এবার প্রথম চুনকা পরিবার সময়ের কর্ণধার ডা.সেলিনা হায়াত আইভী মাঠে নেমেছেন।ফাঁকা মাঠে গোল দেয়াটাকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মনে করছেননা আইভী।প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রচারনা চালাচ্ছেন সভাপতি প্রার্থী মাহবুবুর রহমান মাসুমের পক্ষে।যার ফলশ্রুতি  বিগত দিনের চেয়ে এবারের নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক বেশি।
ওসমান পরিবারের বেলট তানভীর আহমেদ টিটু ও মাহবুবুর রহমান মাসুমের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা।মাসুম ছিনিয়ে নেবে আর টিটু ধরে রাখবে,এই মিশনে আদা-জল খেয়ে ভোটারদের ধারে ধারে শামীম আইভী।নানান প্রতিশ্রুতি আর আশার বাণী শুনিয়ে ভোট চাইছেন ভোটারদের কাছে।রাজকীয় খাওয়া ধাওয়া, গান-বাজনা কোন কিছুতেই কমতি রাখেননি এই দুই প্রার্থী। ঘাম জরানো প্রচারনায় ঘুম হারাম তাদের চোখে।ভোটারদের মাঝেও বিরাজ করছে আনন্দ আমেজ।
একদিকে ওসমান পরিবারের অন্যতম সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী।
মাহবুবুর রহমান মাসুম হেরে গেলে ক্লাব সদস্যদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হবে আইভীর ইমেজ।অন্যদিকে তানভীর আহমেদ টিটু হারলে ভাটা পরবে ওসমান পরিবারে।তাই এই নির্বাচনের ফলাফলের মধ্যদিয়ে দুই প্রভাবশালী পরিবারের অদৃশ্য প্রভাবের বিষয়টি সামনে চলে আসবে।ওসমান পরিবার বিশেষ করে শামীম ওসমান ও আইভীর কাছে বিষয়টি প্রেস্টিজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।ওসমান আর চুনকা পরিবার নয়,স্নায়ু যুদ্ধ চলছে পরোক্ষভাবে শামীম আইভীর মানষপটে।পর্দার অন্তরালে সম্মানের  হিসাব-নিকাষ কষছেন দুই পন্থী শামীম আইভী।
ভোটারদের একাধিক সূত্রমতে, ২০১১ সালের সিটি নির্বাচনে আইভী শামীম ওসমানকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন।২০১৬ সালের নির্বাচনে শামীম ওসমানের বলয় থেকে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন ছিনিয়ে আনেন এবং পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন। নানা সমালোচনার পর কৌশলে সিটি নির্বাচনের আগে জেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতির পদ হাকিয়ে নেন আইভী।শেষ পর্যন্ত জেলা আওয়ামীলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিতেও নিজের বলয় মজবুত করতে ভুল করেননি,যে কমিটিতে শামীম ওসমানের জায়গা হয়নি। সর্বশেষ উপমন্ত্রীর মর্যাদায় আরেক ধাপ এগিয়ে মেয়র আ্ইভী।এবার নারায়ণগঞ্জ ক্লাব নির্বাচনে তার মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে বলয়ের পরীক্ষা হতে চলেছে।অন্যদিকে ব্যবসায়ী  নেতা সেলিম ওসমান,বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও এমপি শামীম ওসমানও বসে নেই।ব্যবসায়ীরাই মুলত এই ক্লাবের ভোটার তাই সেলিম ওসমান তার ইমেজ কাজে লাগাচ্ছেন আর শামীম ওসমান নেপথ্যে পুরো ভুমিকা পালন করছেন।তবে শেষ পর্যন্ত কে হাসবে বিজয়ী হাসি শামীম ওসমান নাকি আইভী?

No comments

Thanks you for comment

Powered by Blogger.