Header Ads


moving image by marquee html code

সোনারগাঁয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে মেঘনা গ্রুপের নদী দখল


গত  ৮ নবেম্বর গনমাধ্যমে মেঘনা গ্রুপের বিরুদ্ধে মারীখালী নদীটি পরিকল্পিতভাবে ভরাট করার অভিযোগ উঠার পর সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন নোটিশ জারি করে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে  ১ সপ্তাহের মধ্যে অবৈধভাবে দখলকরা যায়গা থেকে মাটি সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়।নিজস্ব প্রতিবেদক: গত  ৮ নবেম্বর গনমাধ্যমে মেঘনা গ্রুপের বিরুদ্ধে মারীখালী নদীটি পরিকল্পিতভাবে ভরাট করার অভিযোগ উঠার পর সোনারগাঁ উপজেলা প্রশাসন নোটিশ জারি করে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে  ১ সপ্তাহের মধ্যে অবৈধভাবে দখলকরা যায়গা থেকে মাটি সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়।
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একই ভাবে চালিয়ে যাচ্ছে মেঘনা গ্রুপের দখল বানিজ্য। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের শিল্পাঞ্চলে সামিট পাওয়ার প্লান্টের বিপরীত পার্শ্বে,সরকারী ডিসি গার্ডেন সংলগ্ন মারীখালি নদীর প্রায় অর্ধেক জায়গা রাতের আঁধারে ফ্রেশ চিনির ডাষ্ট দিয়ে ভরে ফেলছে-একজন বিশেষ পেশায় আংগুল ফুলে কলা গাছ হওয়া ভুমিদস্যু ও সন্ত্রাসীর ছত্রছায়ায়। প্রতিরাতে আস্তে আস্তে এভাবেই নাব্যতা হারাচ্ছে স্রোতবাহী মারিখালী নদীটি।ভুমি অফিস সুত্রে জানা যায়,২০১৬ সালে মেঘনা গ্রুপ চর রমজান সোনাউল্লাহ মৌজার আর এস খতিয়ান-১ ও আরএস ৩০৯০ নং দাগে ৩ একর খাস জমি স্থায়ী বন্দোবস্ত নিয়ে স্থাপনা তৈরি করে ভোগদখল করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেঘনা শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দা জানান, গায়ের জোরে একের পর এক দখল চললেও প্রতিকার পাচ্ছেনা সোনারগাঁয়ের সাধারণ মানুষ। নদী দখলের কারণে জরিমানা হয়,জমি দখলমুক্ত করতে হয় সালিশ,হয় মানববন্ধন।এসবের পরও দখলের রাজত্ব থামছে না মেঘনা গ্রুপের।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মেঘনা গ্রুপের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বর্জ্যের কারণে মেঘনা নদীর পানি দূষিত হচ্ছে।এর ফলে ক্রমেই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে নদীর পানি।নদীর পানি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সোনারগাঁ এলাকায় মাছের প্রজনন নেই বললেই চলে।ফলে ঐতিহ্যবাহী শতবছরের মাছের বড় উৎস বৈদ্যেরবাজার ঘাট বর্তমানে মাছশূন্য।এলাকাবাসী জানান, নদী সরকারের সম্পত্তি ও মেঘনা গ্রুপের লোকজন জোড় করে এ নদী দখল করছে। মেঘনা গ্রুপের দালালদের হুমকি মামলা হামলার ভয়ে কেউ প্রতিবাদও করে না। জমি দখলের পরেও কোনো প্রতিবাদ না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে স্থানীয়রা বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে জোড়ে পারি না।জমি,নদী দখলের প্রতিবাদ করলে চাঁদাবাজী-সহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেয়া হয়,দেখানো হয় নানা রকমের ভয় ভীতি ।এজন্য ভয়ে মুখ বুজে সব সহ্য করে যাচ্ছে স্থানীয় লোকজন।তাছাড়াও স্থানীয় বিশেষ পেশার একজনের ঠিকাদারীর নামে সন্ত্রাসী ও দখল বানিজ্য চলছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন।তারা আরো জানান,আমাগো  পিঠ দেওয়ালে ঠেইক্কা গেছে,সে বিশেষ পেশার লোক হওক আর যাই হওক যে কোন সময় আমরা বাধ্য হমু ব্যবস্থা নিতে,প্রয়োজনে পিটাইয়া হাত পাও ভাইংগা দিমু।
জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০-এ বলা হয়েছে, ‘প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন করা যাবে না বা উক্তরূপ জায়গা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করা যাবে না,বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া,ইজারা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করা যাবে না।আইনের সংজ্ঞার ‘চ’ অংশে বলা হয়েছে,প্রাকৃতিক জলাধার অর্থ নদী,খাল,বিল,দীঘি,ঝরনা বা জলাশয় হিসেবে মাস্টার প্ল্যানে চিহ্নিত বা সরকার, স্থানীয় সরকার,কোনো সংস্থা কর্তৃক,সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা,বন্যাপ্রবাহ এলাকা হিসেবে ঘোষিত কোনো জায়গা এবং সলল পানি এবং বৃষ্টির পানি ধারণ করে এমন কোনো ভূমিও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবে। আর শ্রেণী পরিবর্তন বলতে ‘মাটি ভরাট,পাকা,আধাপাকা বা কাঁচা ঘরবাড়ি এবং অন্য যে কোনো ধরনের ভবন নির্মাণসহ কোনোভাবে সেই অবস্থার পরিবর্তন হইতে পারে এমন কিছুকে বুঝাইবে।এই আইন অনুযায়ী নদী বা নদীতীরবর্তী প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট,দখল ও জলাশয়ের শ্রেণী পরিবর্তন সম্পূর্ণ বেআইনি ও নিষিদ্ধ।এ ব্যাপারে মেঘনা গ্রুপের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কার্তিক বাবুর মোবাইলে ফোন কল দিলেও তিনি রিসিভ করেনা,উল্টু ফোন কেটে দেয়।
সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) বি এম রুহুল আমিন রিমন জানান, প্রশাসনকে অমান্য করে মেঘনা গ্রুপ যদি আবারও নদী দখল করতে চায় এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,সরেজমিন তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনুর ইসলাম বলেন,খাল, নদী কিংবা সরকারী জমি দখল আইনত অপরাধ।আমরা যথাশীঘ্রই তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

No comments

Thanks you for comment

Powered by Blogger.